শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯

ডেঙ্গু জ্বর চিকিৎসা ও প্রতিকার পদ্ধতি

ডেঙ্গু জ্বর একটি বহুল পরিচিত নাম । ডেঙ্গু জ্বর আগে ও ছিল এখনো আছে । তাই ডেঙ্গু জ্বরকে ভয় না পেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি আর প্রতিরোধ করেই চলতে হবে ।ডেঙ্গু নিয়ে উৎকন্ঠার প্রয়োজন নেই ।মূলত ডেঙ্গুু ভাইরাসের কারনে রক্তনালিতে প্রদাহের সৃষ্টি ( ভাসকুলাইটিস ) হয় । ফলে রক্তনালির ভিতর থেকে তরল পদার্থ রক্তনালির বাইরে লিক করে বেরিয়ে আসে ।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষনঃ-

ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান লক্ষন হল ,এর কারনে ত্বকের নিচে রক্ত জমে ত্বক ফুলে ওঠে এবং লালাভা চাকার মতো দেখা যায় । একই সঙ্গে রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট কমে গিয়ে রক্তক্ষরনের প্রবনতা বেড়ে যায় ।ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বর গুরুতর কোনো সমস্যা নয় । পেট ব্যথা , মাথা বমি , পেট ব্যথা , মাথা,জয়েন্টে ব্যথা চোখেরে পেছনে ব্যথা , প্রচন্ড হাড় ব্যথার ফলে মনে হয় হাড় ভেঙে গেছে । এ কারনেই এই জ্বরকে "ব্রেক বোন ফিভার "বলা হয়ে থাকে ।

শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর হলে যা করনীয়ঃ-

এই জ্বড়ে আক্রান্ত শিশুকে ধরলে বা নাড়াচাড়া করলেই   শিশু কোঁদে ওঠে এবং খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায় ।ডেঙ্গু জ্বড়ে সারা শরীর বিষেশ করে হাড়ে খুব ব্যথা অনুভুত হয় । শিশুকে ধরলেই শিশু ব্যথায়  কেঁদ ওঠে ।তাই এ সময় শিশুকে খুব সতর্ক ভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে এবং শিশুদের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে । সাধারনত এ জ্বড় ৩-৪ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায় ।

ডেঙ্গু জ্বড়ে অনেক সময় ত্বকে এলার্জি র‍্যাশের মতো র‍্যাশ দেখা দিতে পারে ।  এই র‍্যাশ গুলো কখন ও কখন ও চুলকানির উদ্রেক করে থাকে । অনেক সময় জ্বড়ের তীব্রতার সাথে সাথে , মাড়ি থেকে রক্তপাত , নাক দিয়ে রক্তপাত ,ত্বকের নিচে লালাভাব চাকার মতো জমাট বাঁধা রক্তের নমুনা , রক্ত বমি , পায়খানার সাথে কালো রক্ত যাওয়া দেখা যায় । 

এমনকি রক্তক্ষরন মস্তিষ্ক ও হার্টের মধ্যে ও হতে পারে । হাইপোভলিউমিক শকে গিয়ে মৃত্যু ও হতে পারে । তাই ডেঙ্গু জড় হলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা - নিরীক্ষা করে জড় নির্নয় করতে হবে । কোনো ক্রমেই জড় নিয়ে অবহেলা করা যাবেনা । রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসা  দিতে হবে । 

চিকিৎসা পদ্ধতিঃ-

ডেঙ্গু জড় সাধারনত সাত দিনের এমনিতেই সেরে যায় । এ ক্ষেত্রে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে । এছাড়া ডেঙ্গুু জড়ে প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হয় । প্রয়োজনে শিরো পথে স্যালাইন দিতে হবৈ । হেমোরেজিক জড় হয়েছে  সন্দেহ হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে । 

এক্ষেত্রে রোগীর রক্তের প্লাটিলেট  কাউন্ট এবং পিসিভি পরীক্ষা করাতে হবে ।হেমোরেজিক ডেঙ্গু জড়  রোগীর রক্তের প্লাটিলেট কমে যেতে পারে ।প্লাটিলেট কমে গেলে রোগীকে শিরাপথে প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশন করতে হবে । আর যদি রোগীর প্রত্যাক্ষ রক্তক্ষরন হয়ে থাকে তাহলে রোগীর শরীরে রক্ত দেওয়া যেতে পারে । তাই এ সব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে ।

সূত্র, 

ডাঃ এ বি এম আব্দুল্লাহ

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: